Blogs
মহাবিশ্ব নাকি Methuselah: কোনটির জন্ম আগে?

Alyssa Carson এর অদ্যোপান্ত

Alyssa Carson কে মনে হয় আমরা সবাই চিনি। ঐযে কিউটের ডিব্বা মেয়েটা সারা জীবনের জন্য মঙ্গলে যাবে আর আসবে না। নাসা পার্সোনালি যাকে তৈরি করছে। বেচারার কত্ত নিয়ম করে চলতে হয় জানেন ? বিয়েও করতে পারবে না । আর এইসব কেন করছে জানেন ? মানুষ্য জাতির উপকারের জন্য। আমরা যেন ভবিষ্যতে মঙ্গলে থাকতে পারি সেই জন্য।
নাসা ১৮ বছরের আগে কাউকে না নিলেও এলিসা কে নিয়েছে ১৩ বছর বয়সে তাঁর মেধা দেখে। ২০৩৩ সালে একাই হারিয়ে যাবেন মঙ্গলের মরূতে। তার কিছু হলে নাকি হাজার কোটি টাকার পুরো মিশনটাই নাকি বাতিল হয়ে যাবে ।
কাইন্দেন না আগেই দাঁড়ান। কাহিনী হলো পুরা ঘটনাই ধাপ্পাবাজি আর ভূয়া।
আচ্ছা প্রথমে আসি এলিসার মৃত্যুর গুজব নিয়ে।না ভাই ওইটা ওয়ান ওয়ে মিশন না। ওইটা ২১ মাসের মিশন হওয়ার সম্ভবনা আছে।
তথ্য সূত্র :https://image.gsfc.nasa.gov/poetry/venus/q2811.html
কিভাবে ফিরে আসবে মঙ্গল গ্রহ থেকে তার কিছুটা ধারণা পাবেন এই লিংকে।(সঙ্গত কারণেই সেটা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো না) https://www.nationalgeographic.com/science/article/151002-mars-mission-nasa-return-space
এছাড়া এলন মাস্ক নিজেই উল্লেখ করেছেন SpaceX এর starship গুলো পর্যাপ্ত শক্তিশালী হবে পৃথিবী ও মঙ্গলের মাঝে কয়েকবার যাতায়েতের জন্য।
তথ্য সূত্র : https://www.space.com/spacex-launch-astronauts-mars-2024
আবার এলিসা নাকি বিয়ে করতে পারবে না । জানেন ২০০৩ সালে Yuri Malenchenko space এ থাকা অবস্থায় Ekaterina Dmitriev কে বিয়ে করেন যিনি তখন নাসার হেড কোয়ার্টারে ছিল। তাদের বিয়ে হয়েছে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। এখন এলিসার বিষয়টা গুজব কিনা সেটা নিজেই বুঝেন।
২০০৩ সালের first space wedding এ নাসার হেড কোয়ার্টারে তোলা ছবি।
যদিও নভোচারীদের পিরিয়ড নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয় এবং তাদের নিয়মিত প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হয় তবুও বিবাহিতরা যেতে পারবেন না এমন কোন নিয়ম নেই। নভোচারী কাপলদের একসাথে স্পেস স্টেশনে থাকাও নতুন কিছু নয়।
আর নাসার সাথে এলিসার কোন অফিসিয়াল যোগাযোগ নেই। নাসার spoke man সরাসরি এই বিষয় পরিষ্কার করেছেন ।
তাহলে সে নাসার ফ্লাইট স্যুট গুলো কিভাবে পাই? যেগুলোতে সচরাচর তাকে দেখা যায় ?
এই লিংকে গিয়ে আপনেও কিনে নিয়ে আসেন।
তাহলে এলিসা কেন নিজের ইন্সাটাগ্রাম আর টুইটারের নামের সাথে নাসা যোগ করছে ?
হয়তোবা আমাদেরকে দিয়ে গুজব ছড়ানোর জন্য।😁😁
এখন আসি এলিসা কি একাই যাবে ? না কখনোই না।স্পেসে অনেক রকম কাজ আছে সেগুলো একা কারো পক্ষে করা অসম্ভব।
আবার এলিসা যদি অনেকের সাথেই সিলেক্ট হয় বা যায় তবুও তাকে ছাড়া কি মিশন সম্পন্ন হবে ? উত্তর হলো হ্যাঁ ।
স্পেসে সবাইকেই বেশ কিছু কাজ করতে হয় । এমন যদি হয় একটি কাজ যদি একজন শুধু জানে তবে তাকে বলে single point of failure (SPOF) এক্ষেত্রে ওই এক জনের কিছু হলে বাকি সবাই মারা যাবে। তাই সবাই মিলে যেকোন জনের অভাব পূরণ করতে পারবে।
আবার প্রতিটি হিউম্যান স্পেস মিশনের একটি ব্যাকাপ টিম থাকে যারা মূল দলের সাথে ট্রেনিং নেন।
অ্যাপোলো মিশনের সময় অ্যাপোলো ১ এর ব্যাক আপ টিমটা অ্যাপোলো ৪ এর মূল টিম হয়েছিল।
আরেকটি মজার ঘটনা হলো Armstrong চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষ হতো না যদিনা Gemini 9 মিশনের ২ জন প্রাইমারি সদস্য না মারা যেতেন।
Gemini 9 মিশনে মারা যাওয়া ২ জন অ্যাস্ট্রোনট
Neill Armstrong
যদিও মঙ্গলে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোন প্ল্যান হয়নি আদৌও 2030s এ যাওয়া হবে কি না সেটা ঠিক নাই।গেলেও এলিসা সিলেক্ট হবে কি না সেটাও বড় ব্যাপার। তবুও তাকে নিয়ে এত্তো এত্তো গুজব।
তাহলে এলিসা কি নো বডি ? তার কোন অ্যাচিভমেন্টি নাই ? না ব্যাপারটা এমনও না।
–এলিসা এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তি যে প্রতিটি স্পেস ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন এমনকি যেগুলো কানাডা বা তুর্কীতে হয়েছে সেগুলোতেও।
MIT এর সামার ক্যাম্পেও সে অংশগ্রহণ করে ।
এলিসা নাসার পাসপোর্ট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন ২০১৪ সালে। US এর ৯ টি স্টেটের ১৪ টি ভিসিটিং সেন্টার পরিদর্শন করে।
Alyssa Carson in space camp.
(যদিও নিন্দুকের মতে পর্যাপ্ত টাকা আর কিছু যোগাযোগ থাকলেই এগুলো করা যায় , যেহেতু তারা নিজেরা এগুলো করেনি তাই তাদের উপেক্ষা করাই ভালো। )
— এলিসা ১৮ বছর বয়সে পাইলোটের লাইসেন্স পান। এছাড়াও g-force training, micro gravity flights, water survival সহ বেশ কিছু বিষয়ে ট্রেনিং নেন।
–এলিসা Mars Exploration Rover এ একজন panelist হিসেবে যোগদানের জন্যও নিমন্ত্রণ পান।
–এলিসা ২০১৭ তে Louisiana young heroes অ্যাওয়ার্ড পান।২০১৯ সালে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে LSU Women’s Center Esprit de Femme Award জিতে নেন। এছাড়াও science category তে Louisianan
of the year খেতাব জিতেন ২০২০ সালে।Alyssa Carson being honoured as Louisiana ambassador from Louisiana government.
–এলিসা বিভিন্ন টক শোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন, বেশ কিছু ডকুমেন্টারিতে তাকে ফিচার করা হয়েছে তার মধ্যে The Mars Generation এর কথা উল্লেখ করাই যায়।
Alyssa Carson in The Mars Generation.
২০১৮ সালে so you want to be an astronaut নামে তার আত্নজিবনীও প্রকাশিত হয়।
Book of Alyssa Carson.
— এছাড়াও Nike,SodaStream সহ বেশ কিছু কোম্পানির Brand embassador হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
— বর্তমানে তিনি astrobiology নিয়ে the Florida Institute of Technology তে পড়াশোনা করছেন।
Mars one (being fraud and Bankrupt ) এর জন্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া এক কোম্পানির ওয়েবসাইটে তিনি নিজের স্বপ্ন নিয়ে লিখেছিলেন :
I would love to go to Mars because it is a planet that no one has been before. It’s about the same size as the Earth and there are ice caps at the top and bottom of Mars. That means there is water on Mars. This could possibly be our next Earth. Just think about all the things that are in Space. For example: planets we have never explored, galaxies that we have never heard of, stars that are just babies, black holes that are as wide as the Sun to Pluto multiple times and has the mass of a billion suns, parts of the universe that we have never seen. Just think of all that stuff just floating around. It’s more than you can imagine.
দিনশেষে এলিসা যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করে আর আমরাও যেন গুজব থেকে দূরে থাকি এই আশায় আমাদের সবার কাম্য।
লেখক- Shahriar Alam

https://www.facebook.com/shahriaralam.niloy/
mail: shahriaralam763@gmail.com